সম্পাদকীয়

ভূমিতেই অর্থ ভূমিতেই দ্বন্দ্ব

১০ মার্চ ২০২১,বিন্দুবাংলা টিভি. কম,  এম এইচ  বিপ্লব  সিকদার  :” ভূমি ” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যার আছে সেও তাপ পোহায় আবার যার নেই সেও তাপ পোহায়। দ্রুত বিত্তশালী হওয়ার একটা পথ, আবার ফকির হওয়ার ও পথ। সকলেরই  বিনিয়োগে আস্থার স্থান। জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। বিশ্বে ভূমি সুরক্ষা আইন রয়েছে। বাংলাদেশ ও এর বাইরে নয়। বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অসচেতনতায় ভূমির আইনের সঠিক প্রয়োগ না জানায় গোড়াপত্তন থেকেই এর জটিলতা। তাপ পোহাতে হয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কোর্টকাছারি থেকে শুরু করে প্রান্তিকে প্রভাবশালী ও ভূমিদস্যুতার কবলে পরে নিস্ব হয়ে ভূমিহীন হয়েছে অনেক যা গতানুগতিক, অব্যাহত। আমাদের দেশে শহর, বন্দর, গ্রাম পুরো মানচিত্রের মধ্যেই অতিমাত্রায় রয়েছে দুর্বৃত্তায়ন। “ক্ষমতা ” এক, কতিপয় সাংবিধানিক কর্তা, দুই -কতিপয়  রাজনৈতিক ব্যক্তি,  পেশি শক্তি, ঐক্যবদ্ধ গোত্র, ইত্যাদি ইত্যাদি শক্তির অপপ্রয়োগ করে ভূমিতে অসামাজিক বিনিয়োগ করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছে। কোন এক সময় ছিল মুরুব্বিদের মুখে শুনা কথা যা প্রমাণিত সমাজে মুখের কথার উপর আত্মবিশ্বাসী হয়ে এই মহামূল্য সম্পদ ক্রয় বিক্রয় করতেন। দখল দিয়ে দিতেন স্বেচ্ছায় মেনে নিয়ে সম্প্রীতি বজায় রেখে জীবন জীবিকা চালাতেন। আর এখন ভাবা যায়!  খুব কম সেক্টরই আছে অসংগতি ছাড়া তবে ভূমি সেক্টর মাত্রাতিরিক্ত। গোটা বিশ্বই এই রোগে আক্রান্ত। চলমান পৃথিবীর অন্যসেক্টর এর চাইতে এই সেক্টর টা যেমন বৈধ বিনিয়োগ এ বৈধ আয়ের সুযোগ রয়েছে তেমনি দুর্বৃত্তায়ন ও আছে অতি মাত্রায়।  কারন একটাই কূটকৌশল অবলম্বন করে ভূমি সুরক্ষায় জড়িত  সকলের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ  অংশগ্রহণ মূলক সিন্ডিকেটের কবলেই ভূমিহীন, জীবন নাশ থেকে শুরু করে কত কি ফ্যাসাদ, কূটিলতা,জটিলতা, তৈরি করার আছে নানাহ প্রভাকান্ডা, ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা হারাচ্ছে স্বজনপ্রীতি, হারাচ্ছে সভ্যতা, সংস্কৃতি,। বিশেষ করে প্রান্তিকে সমসাময়ীক কালে নজর দিলে দেখা যাবে কতিপয় রাজনৈতিক, সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত, পেশি শক্তির অধিকারী গোষ্ঠীর সম্বয়ে অঘোষিত সম্প্রদায় সম্প্রীতি তৈরি হয় যাদের জনকল্যাণমুখী আইওয়াশ শ্লোগান আর জনগণকে গোলকধাঁধায় ফেলা এক কথায় লোকদেখানো সেবকের দায়িত্বে অবতীর্ণ হয়ে শুরু করে যতসব অপকর্ম, মুখফোটা তো দূরের কথা কোন রকম বেচে থাকাটাই দায় হয়ে পরেছে সমাজে। অসংগতিই যেন সংগতিপূর্ণ ও গ্রহনযোগ্য কর্তাবাবুদের কাছে আইন, রীতিমতো কাগুজে সীমাবদ্ধ চেহারা টাই সব। তাই অসভ্য সমাজে ছাত্র থেকে শুরু করে বার্ধক্যে থাকা ব্যক্তিটিও ভিন্ন ভিন্ন কায়দায় ফেস ভেলু তৈরিতে ব্যস্ত। সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রাখাতো দূরের কথা অসামাজিক আচরণে সমৃদ্ধ অর্জনকারীর প্রতিটি পদক্ষেপের যাতাকলে পৃষ্ট হচ্ছে গোটাজাতি। মাদক নির্মূল, বাল্যবিবাহ বন্ধ, সহ বিভিন্ন জনসচেতনতার কিছু উপদেশ দিয়ে সমাজপতি সেজেগুজে আখের গুছানোর জন্য উল্লেখিত সম্প্রদায়ের অনুগামীরা যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে রসাতলে যাচ্ছে প্রজন্ম, জাতি। সব অসংগতিকে ছাড়িয়ে গেছে আজ ভূমি সেক্টর। কাগজের ঝামেলা, অংশিদারিত্ব, অর্পিত বা খাস, সকল শ্রেণির ভূমিতে পরিবার থেকে প্যাচ তৈরি করে সেই প্যাচ মিটানোর পতি সেজে বিভিন্ন কলাকৌশল প্রদর্শন করে মোটা আয়ের পথ এখন দৃশ্যতই বৈধ বৈকি!  অথচ প্যাচহীন জনতা, আম জনতা, বহুদিন স্থানীয় অনুপুস্থিতি থাকা ব্যক্তিটির শেষ সম্বল হারিয়ে পথে বসে আছে এমন লাখ লাখ নিপীড়িত পরিবার রয়েছে আমাদের সমাজে। আবার কেউ কেউ দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে মিষ্টভাষী হয়ে উপকারের কথা বলে দেবতা সেজে অশুভ সিন্ডিকেটের পাতি দালাল মধ্যস্থতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ও কোটি পতি বনেগেছে। বআবার যুগযুগান্তরই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ভূমি ক্রয় বিক্রয় করে পেশাদারিত্বের সুনাম আছে অনেকের। তবে ক্ষমতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোরপূর্বক দখল দারিত্ব কূটচাল, কূটনীতির কবলে দিশেহারা আমজনতার আহাজারি আজ এতটাই অপ্রত্যাশিত বেড়েছে যা সভ্যতায় চলেনা। দ্রুত আয়ের পথ ভেবে অনেক বড় জনগোষ্ঠী আজ স্থানীয় মাফিয়া বনে যাচ্ছে, কোন জায়গায় হস্তক্ষেপ না থাকলেও অদৃশ্য স্থানীয় কথিত মাফিয়াদের হাত ভূমিতে আছেই কারন ভূমিতে অনেক অর্থ ও দ্রুত বিত্তবান হওয়ার প্রধান চ্যানেল। কর্তাদের কদর ও অনেক বেশি, কারন দ্বন্দ্ব এতটাই প্রখর যে সেই অঘোষিত সম্প্রদায় ছাড়া মেটানোর পথ খুব নগন্য। এর থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজতে সেবাদায়ীদের মূল্যবোধ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button