রাজনীতি

পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন জনতার খসরু এমপি

১৫ এপ্রিল ২০২১,বিন্দুবাংলা টিভি. কম, স্টাফ রিপোর্টার :

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কুমিল্লা -৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নব-নির্বাচিত সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার কথা রয়েছে। বাদ আছর মরহুমের নিজ গ্রামের বাড়ী মিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এর আগে ঢাকা সহ কুমিল্লায় একাধিক জানাজায় মুসুল্লিদের ঢল নামে ।

বাদ যোহর তাঁর নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সদরের আনন্দ পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩য় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ,কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক আহমেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আবুল হাসেম খান, সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আখলাক হায়দার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন স্বপন,  মরহুমের ছোট ভাই এডভোকেট আবদুল মুমিন ফেরদৌস, মরহুমের ছেলে আবদুল মুমিন ওয়াছিফ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট রেজাউল করিম খোকনসহ আরো অনেকে।
জানাজা শেষে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।৪র্থ জানাজার নামাজ বিকাল ৪ টায় ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
এড. আব্দুল মতিন খসরু ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫০ সালে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাজী মোঃ আবদুল মালেক এবং মাতা জাহানারা বেগম। তিনি চার ভাই তিন বোনের মধ্যে সকলের বড় ছিলেন। তার এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়েটি ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে কর্মরত আছেন, ছেলেটি আর্কিটেট পেশায় নিয়োজিত।

আবদুল মতিন খসরু মাধবপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএ পাশ করে কুমিল্লা ল কলেজ থেকে এল এল বি সম্পন্ন করেন।

এলএলবি এবং বিকম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭৮ সালে কুমিল্লা জজকোর্টে যোগদান করেন এবং ১৯৮২ সালের ১৩ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১০ সালের ২৪ আগস্ট তিনি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। পরে ১৯৯১ সালে আবারো নৌকা প্রতীক নিয়ে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তারপর ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে মোট ৫ বার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এর মধ্যে ৭ম সংসদে (১৯৯৬-২০০১) আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তিনি। তিনি দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। ২০১৯ সালেও তাকে একই পদে বহাল রাখা হয়।

শেখ হাসিনার প্রথম মন্ত্রিসভায় ২৩ জুন ১৯৯৬ হতে ১৪ জানুয়ারি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরে ১৫ জানুয়ারি ১৯৯৭ সাল থেকে ১৫ জুলাই ২০০১ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল মতিন খসরু। আইনমন্ত্রী থাকাকালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করেন যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ খোলে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার আগে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের থানা ও জেলার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

শুধু রাজনীতে নয়, আইন অঙ্গনেও তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তিনি কয়েকবার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০২১-২০২২ সেশনে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গত ১৫ মার্চ করোনা টেস্টের পরদিন (১৬ মার্চ) সকালে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।

পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি হলে তাকে কেবিনে নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে অবনতি হওয়ায় ১৮দিন পূর্বে তাকে ফের আইসিইউতে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
বুধবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন।তার মৃত্যুতে কুমিল্লাসহ সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করে।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button