জাতীয়

সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী গ্রেফতার

হাজিরা না দেওয়ায় পরোয়ানা

২১ অক্টোবর ২০২০, বিন্দুবাংলা টিভি. কম,

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় দৈনিক সংগ্রামের প্রধান প্রতিবেদক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সেই পরোয়ানা পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশ রুহুল আমিন গাজীকে মগবাজারে দৈনিক সংগ্রামের অফিস থেকে গ্রেফতার করেছে।

দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদ ও প্রধান প্রতিবেদক রুহুল আমীন গাজীসহ আট জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও রাষ্ট্রদ্রোহের ওই মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রুহুল আমীন গাজীকে গ্রেফতার করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ সারাবাংলাকে বলেন, রুহুল আমীন গাজীর বিরুদ্ধে আদালত থেকে একটি পরোয়ানা আসে। সেই পরোয়ানা অনুযায়ী রুহুল আমীন গাজীকে মগবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামীকাল তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেঁজগাও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুনুর রশিদ সারাবাংলাকে বলেন, রুহুল আমিন গাজীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে, রুহুল আমিন গাজী দাবি করেছেন, ওই মামলায় তিনিসহ অন্য আসামিরা স্থায়ী জামিনে আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএফইউজে একাংশের একজন সাংবাদিক নেতা সারাবাংলাকে বলেন, ওই মামলায় রুহুল আমীন গাজীসহ অন্যান্য আসামিরা আদালত থেকে স্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি করোনাকালে রুহুল আমিন গাজী আদালতে হাজিরা দেননি। এতে তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে।

গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর আফজাল হোসেন নামে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দৈনিক সংগ্রামের  সম্পাদক আবুল আসাদ ও প্রধান প্রতিবেদক রুহুল আমিন গাজীসহ আট জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। ওই দিন রাতেই আবুল আসাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এজাহারে অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি হয় ২০১৩ সালে। তখন কাদের মোল্লাকে ‘কসাই কাদেরথ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালত কাদের মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। কিন্তু রাজাকার অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির দোসররা দেশের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়, এরই ধারাবাহিকতায় ১২ ডিসেম্বর দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ষষ্ঠ শাহাদতবার্ষিকী আজ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দেওয়া হয়। আসামি আবুল আসাদসহ অন্য আসামিরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্যক্তিদের খেপিয়ে তোলার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত আনার জন্যই এমন মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য এ ধরনের উসকানিমূলক সংবাদ পরিবেশন করেন এই আসামিসহ অন্যরা। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য আসামিরা সর্বদা সচেষ্ট রয়েছেন। এই আসামিসহ অন্য আসামিরা রাষ্ট্রদ্রোহী সংঘবদ্ধচক্রের সহায়তায় এই ধরনের উসকানিমূলক তথ্য প্রচারসহ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানকে অস্বীকার করেন।

সারাবাংলা

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button