সারাদেশ

ত্রাণের জন্য ভোগান্তী

১৯ মে,২০২০, বিন্দুবাংলা টিভি. কম,

মোঃ আকতারুল ইসলান আক্তার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি,: গতকাল সোমবার সময় তখন বেলা ১টা। ঠাকুরগাঁওয়ে রানীশংকৈল উপজেলা পরিষদের সমাজসেবা অফিস চত্বরে বিভিন্ন বয়সের শতাধিক মানুষ। বিচ্ছিন্নভাবে জটলা বেধে, কেউ অফিসের সামনের মাটিতে বসে। কেউ’বা আবার পাশের বন্ধ অফিসের বারান্দায় জটলাবেধে বসে রয়েছে। জটলায় পুরুষের তুলনায় মহিলার সংখ্যাটি বেশি। তাদের মধ্যে নেই কোন সামাজিক দুরত্ব বা স্বাস্থ্য বিধির নিয়ম কানুন। তারা একে অপরে শরীরে শরীর ঘেঁষে বসে রয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী মানুষে মানুষে দুরত্ব নিশ্চিত করে। সব কাজ সাড়তে নির্দেশনা রয়েছে। না হলে করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর আশঙ্খা রয়েছে।
এ প্রতিবেদক সরজমিনে গিয়ে হঠাৎ কেন এত মানুষের সমাগম জানতে প্রশ্ন রাখে, জটলা করে বসা থাকা মানুষদের।তাদের মধ্যে নন্দুয়ার ইউপির সন্ধারই গ্রামের ফাতেমা বেগম(৫০) বলেন, আমাদের ত্রাণ দিবে উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে, তাই আমরা এখানে অপেক্ষা করছি। একইভাবে হোসেনগাঁও ইউপির রাউতনগর গ্রামের বয়সের ভারে ন্যুজ্ব বৃদ্বা কাউলানী বালা বলেন, সকাল এগারোটার সময় ওসিউ বসে বসে থাকতে আর ভাল লাগেনি বড় স্যারটা ওসবে তারপর নাকি ইমা ত্রাণ দিবে। ত্রাণ লেহেনে তারপর বাড়ী যামো।
একই কথা লেহেম্বা ইউপির খনজনা গ্রামের বাইতু(৪৬) গোগার গ্রামের মাজেদা(৫০) পদমপুরের মালেকা(৪৫) বলেন, অফিসের সাহেব সকাল ১১টার সময় ওসপা কইছে এতাহেনে ওসিয়ি। এলা কহছে আরো দেরি হবে। জেলার স্যার ওসপে তে ত্রাণ দিবে। কি আর করার ছে সকাল এগারোটা তে বসেছি। বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত লাগে গি’য়ে। বড় স্যারটা ওসলেই একেবারে ত্রাণ লেহেনে যামো।
ত্রান দেওয়ার নাম করে এভাবেই কয়েকঘন্টা অপেক্ষা করানো হয়। বয়স্ক বিধবা ভিক্ষুক ও প্রতিবন্ধি ব্যক্তিদের। এতে তারা চরম ভোগান্তীর মধ্যে পড়েন। পরে বেলা দুইটায় জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক(ভারপ্রাপ্ত) সাইয়েদা সুলতানা উপস্থিত হয়ে তাদের মাঝে ত্রাণ তুলে দেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবার ইউনিয়ন সমাজকর্মিবৃন্দরা। তবে ত্রাণ বিতরণের সময়ও মানা হয়নি সামাজিক দুরত্বের নিয়ম কানুন।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১০৫ জন বয়স্ক বিধবা ভিক্ষুক ও প্রতিবন্ধীকে। খাদ্য সামগ্রী(ত্রাণ) বিতরণ করার একটি তালিকা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী এ ত্রাণ সামগ্রীগুলো জেলা ডিডি মহোদয়ের উপস্থিতিতে বিতরণ হয়েছে
করোনা প্রার্দুভাব মোকাবেলার একজন স্বেচ্ছাসেবক নাজমুল হোসেন, তিনি বলেন এভাবে সমগ্রহ উপজেলার লোকদের ডেকে যদি ত্রাণ দেওয়ার নামে একত্র করা হয়। আবার স্বাস্থ্য বিধি না মেনে এসব কাযর্ক্রম চালানো হয় । তাহলে তো আমরা করোনা সংক্রমণের ঝুকির মধ্যে থাকি। যেখানে সরকার বলছে বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবেন না। সেখানে ত্রাণ দেওয়ার নামে এভাবে ডেকে মানুষের জটলা করে ত্রাণ বিতরণ কতটুকু আইনসঙ্গত?
বক্তব্য নিতে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে মঙ্গলবার ৩টা ১৫ মিনিটে ফোন দিলে তিনি তাতে সাড়া দেন নি।
মঙ্ঘরবার মুঠোফোনে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও উপ-পরিচালক সাইয়েদা সুলতানা বলেন, যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে অব্যশই এটি অপ্রত্যাশিত। ভবিষ্যৎ এ এমন ঘটনা যেন পুনরায় না। ঘটে সেদিকে আবার নজর থাকবে।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button