অন্যান্য

টাংগাইলে ন্যায় বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন ভাইস চেয়ারম্যান নবীন

২৯ মে ২০২০, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, শেখ মাজহারুল ইসলাম সোহান, প্রতিনিধি, :

টাংগাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কে বরখাস্তর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছেন টাংগাইল সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা নবীন

গত ২৮/০৫/২০২০ তারিখ ইং টাঙ্গাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অফিস কক্ষে ঢুকে মারধরের অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা নবীনকে বরখাস্তর চিঠি পাঠানো হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা নবীন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ এর সত্যর বিষয়ে তিনি সঠিক তদন্তের দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি প্রেরণ করেছেন।
নিম্নোক্ত চিটি হবুহু তুলে ধরা হলো

সবার কাছে বিনীত প্রার্থনা…

সম্মানিত টাংগাইলবাসী,আসসালামু আলাইকুম।
আপনারা জানেন যে গত ২২/০৫/২০ তারিখ আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন সদর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা এবং অদ্য ২৮/০৫/২০ তারিখ জানতে পারলাম আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।কিন্তু কেনো আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা তা আপনাদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরতে চাই –
গত ২১ শে মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ত্রান ৬৫ জন প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।আমি প্রতিদিনের ন্যায় সেদিনও অফিসে কাজ করতে যাই।এসময় সদর উপজেলায় এক অসহায় প্রতিবন্ধীকে নিয়ে তার দাদী আসেন সদর উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তার রুমে।টাংগাইল সদর উপজেলা প্রশাসন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শিশু খাদ্য প্রদান করা হয়।এই কারনে এই অসহায় প্রতিবন্ধী শিশুকে (আমার মেয়ের মতো বয়স ৩-৪) দেখে আমি জিজ্ঞেস করি আপনারা কি শিশুর খাদ্যের জন্য আসছেন,উত্তরে তারা জানান “দুধের জন্য আসি নাই প্রতিবন্ধীদের ঈদ উপহারের জন্য আসছি”।
এটা শুনে আমি বাচ্চাটির প্রতিবন্ধী কার্ডের ওপরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়ার জন্য, PIO সাহেবের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করি। বাচ্চাটির দাদি বাচ্চাটিকে নিয়ে যান ঈদ উপহার নেওয়ার জন্য প্রথমবার তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়,তখন তারা আমার রুমে এসে জানালে আমি আমার অফিস সহকারীকে সাথে দিয়ে আবার পাঠাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জন্য। তখন PIO অফিসের একজন সহকারী আমাকে টেলিফোন করে জানান আপনার সুপারিশকৃত প্রতিবন্ধী শিশুটিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার দিয়ে দিচ্ছি। তার একটু পরে তারা আবার আমার রুমে ফেরত এসে বলেন PIO সাহেব আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার দিতে বারণ করে দিয়েছেন। তখন আমি মনে অনেক কষ্ট নিয়ে PIO সাহেবকে ৮ থেকে ১০ বার মোবাইলে ফোন করার পরও তিনি রিসিভ করেন নাই। এরপর আমার অফিস সহকারীকে উপজেলা কম্পেক্স এর ৪র্থ তলায় পাঠাই PIO সাহেব অফিসে আছেন কি না এটা জানার জন্য,আমার অফিস সহকারী জানান PIO সাহেব রুমে বসে গল্প করছেন, তখন আমি PIO সাহেবের রুমে যাই এবং তার কাছ থেকে জানতে চাই কেনো প্রতিবন্ধী শিশুটিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার দেওয়া হচ্ছেনা, এর উত্তরে PIO সাহেব আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।একপর্যায়ে আমরা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ি। পরে আমি তার কক্ষ থেকে চলে আসি। আমি আমার সর্বোচ্চ কসম দিয়ে বলতে পারি -আমি তার গায়ে হাত দেই নাই….দেই নাই…..দেই নাই….।
এরপরও আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় করার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়েছেন,আমি নাকি তাকে অবৈধ ত্রানের স্লিপ দিয়েছি।
আর তাই যদি সত্যি হয় তাহলে টাংগাইলবাসী আমাকে যে শাস্তি দিবেন তা আমি মাথা পেতে নেবো। আর আমি যদি তাকে আঘাত করে থাকি তাহলে বাকবিতণ্ডা হলো আনুমানিক ৪.৩০ ঘটিকায় আর তিনি হাসপাতালে মিথ্যা চিকিৎসাপত্র নিলেন ১০.৩০ ঘটিকায়।
আমার প্রশ্ন – তাহলে তাকে কি আমি সত্যিই আঘাত করেছিলাম??
একদিন মৃত্যুর স্বাদ সবাইকে গ্রহণ করতে হবে,একথা ভুলে গেলে চলবেনা। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ (১)অবৈধ ত্রানের স্লিপ এবং (২) মারধর নাটক সাজিয়ে ফাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে ন্যায় বিচার চাই৷
আমি ২০০০ সালে ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে টাংগাইল
পৌরসভার অন্তর্গত ৪নং দিঘুলিয়া ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পাই,২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বিজরিত সরকারী মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলাম,২০০৩ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (লিয়াকত- বাবু) টাংগাইল জেলা শাখার সর্বোকনিষ্ঠ হিসেবে (মানিক-রৌফ কমিটির) প্রচার সম্পাদক মনোনীত হই,২০১০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ(রিপন-রোটন) টাংগাইল জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হই এবং ২০১৫ সালের ২৬ শে জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করি,২০১৫ সালে টাংগাইল শহর আওয়ামীলীগ সম্মেলনে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়ে অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি,২০১৯ সালের ৩১ শে মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে টাংগাইল সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। করোনা যুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের সাথে সম্বনিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।ছাত্রলীগের একজন সাবেক কর্মী হিসেবে এবং আওয়ামীলীগের একজন কর্মী হিসেবে আপনাদের সবার দোআ ও সহযোগিতা চাই। আমার বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।সর্বোপরি গনতন্ত্রের মানসকন্যা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে ন্যায় বিচার চাই।
সত্যের জয় হোক।
জয় বাংলা -জয় বঙ্গবন্ধু ।।

নাজমুল হুদা নবীন
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, টাংগাইল শহর আওয়ামীলীগ,
সাবেক সভাপতি ও প্রচার সম্পাদক, টাংগাইল জেলা ছাত্রলীগ,
সাময়িক বরখাস্তকৃত ভাইস চেয়ারম্যান, টাংগাইল সদর উপজেলা পরিষদ।।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button