সারাদেশ

ফুটবল খেলায় বিতর্ক সিদ্ধান্তে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ২০

০৪ জানুয়ারী ২০২১, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে স্থানীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে পরিচালনাকারীদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ডোননদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে সংবাদকর্মী কাউছার হোসেনের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় স্থানীয়রা। এ সময় তাকে মারধরও করা হয়। এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাতনামা ৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে ডোননদী দিগন্ত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয় ডোননদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। রোববার বিকেলে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় নোয়াগাঁও সমাজ কল্যাণ ক্রীড়া সংঘ ও ডোননদী ক্রীড়া সংঘ। খেলার একপর্যায়ে পরিচালনাকারীদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে দুপক্ষের খেলোয়াড়দের মাঝে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

পরে আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কিছু লোক লাঠিসোটা নিয়ে নোয়াগাঁও ক্রীড়া সংঘের সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এতে শুরু হয় সংঘর্ষ। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী দৈনিক ভোরের কাগজের রামগঞ্জ প্রতিনিধি কাউছারের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে মারধর করা হয়।

নোয়াগাঁও সমাজ কল্যাণ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি ও নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ জানান, ‘খেলায় একটি কর্নার ও বিপক্ষ দলের অফসাইড হলেও রেফারি তা দেননি। এ নিয়ে মাঠের বাইরে দর্শকদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার দলের খেলোয়াড়রা আবেদন করেও ব্যর্থ হন। এরমধ্যেই টুর্নামেন্ট কমিটির লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে তার খেলোয়াড় ও গ্রামবাসীর ওপর হামলা করে। এতে তার এলাকার ১১ জন আহত হয়।

তবে এ ঘটনায় টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী ডোননদী দিগন্ত ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোতালেব মাস্টারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তবে সাংবাদিককে মারধর ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button