এক্সক্লুসিভ

করোনায় “মেঘনা উপজেলা “

১৩ জুলাই ২০২০, বিন্দুবাংলা টিভি. কম,
রাব্বি হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা এক, দুই করতে করতে গেল জুন মাসের প্রথমেই লক্ষাধিক ছাড়িয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়েছে করোনা, কোন কোন জেলায় রেকর্ড সংখ্যক, আবার কোন কোন জেলায় গুটিকয়েক। তেমনি কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হাতেগোনা গুটিকয়েক। ১২ জুলাই পর্যন্ত মোট ৩০৩ টি নমুনা সংগ্রহ করে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আক্রান্তের সংখ্যা ৪১জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৭ জন, আর ১৫ জন হোম আইসোলেশনে আছেন।

করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে মেঘনা উপজেলা চেয়ারম্যান করোনা সম্মুখ যোদ্ধা মোঃ সাইফুল্লাহ মিয়া রতন সিকদার বলেন- আমরা করোনার শুরু থেকেই মেঘনাবাসির সুরক্ষার জন্য কঠোর ছিলাম। সরকারি ভাবে তখনও লক ডাউন ঘোষণা করেনি, কিন্তু আমরা মেঘনার সকল প্রবেশ পথে বাহির থেকে আসা বন্ধ করে দেই, যারা এসেছি তাদের হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করি। করোনায় মেঘনার মানুষের যাতে খাদ্যের সমস্যা না হয়, সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভাবে এবং সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে থাকি। আলহামদুলিল্লাহ কুমিল্লার অন্যসব উপজেলা থেকে মেঘনার প্রেক্ষাপট অনেক ভালোর দিকে৷ করোনা পরবর্তী সময়ে বেকারদের জন্য যুব উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা বিশেষ প্রশিক্ষণ দিবো। ইনশাআল্লাহ আমরা সব সময় মানুষের পাশে আছি।

করোনায় মেঘনায় আরেক সম্মুখ যোদ্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসার ডা. জালাল হোসেন বলেন- যেহেতু করোনা ভাইরাস নতুন একটি ভাইরাস আমাদের চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতাও নতুন। আমরা করোনার শুরু থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করি, প্রতিটি ইউনিয়নয়নে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। এ পর্যন্ত ৩০৩ টি নমুনা সংগ্রহ করে ৪১ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে, এতে দুই জন স্বাস্থ্য সহকারী। আক্রান্তদের আমরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি, কাউকে অন্য কোথাও ট্রান্সফার করতে হয়নি। কিছু দিনের মধ্যেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪১ টি পয়েন্ট নিয়ে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ইউনিট তৈরি হবে। আশা করি করোনা আক্রান্তদের কোন অক্সিজেনের ঘাটতি হবে না। করোনার পাশাপাশি অন্য সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা আগের মতোই চলমান। তবে সরকার করোনা পরীক্ষা ২০০ টাকা ফি করায় এখন আগের মতো নমুনা দিতে আসে না,এটা একটা সমস্যা। তবে সার্বিক বিবেচনায় মেঘনা উপজেলার পরিস্থিতি ভালোর দিকে।

মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রবীর কুমার রায় বলেন- মেঘনা উপজেলা কুমিল্লার অন্য উপজেলা থেকে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের দিক থেকে নিচের দিকে। আমরা প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিলাম, বহিরাগত কাউকে প্রবেশ করতে দেইনি, এবং সব সময় মেঘনায় নজরদারিতে রেখেছি। ত্রান সামগ্রী দিয়ে, সচেতনতা মূলক কার্যক্রম করে সব সময় মেঘনার মানুষদের পাশে ছিলাম, পাশে থাকবো। উপজেলা প্রশাসন থেকে যা যা প্রযোজন আমরা করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

এদিকে মেঘনার সাধারন মানুষের মধ্যে করোনার কোন প্রভাবই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না, দোকানে দোকানে, রাস্তায়, হাট বাজারে লোক সমাগম বেড়েই চলেছে, প্রশাসনিক ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হলেও মানছে না সামাজিক দূরত্বের আইন।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা ভাবছেন মেঘনায় যদি এমন অসচেতনতা বৃদ্ধি পেতে থাকে তবে মেঘনায় হতে পারে কুমিল্লার সব উপজেলা থেকে সব চেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা, কারন মেঘনার পাশেই নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা যেখানে সবচেয়ে বেশি করোনা পজিটিভ। প্রশাসনে আরো কঠোর ভাবে আইনের ব্যবস্থা নিতে পারাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button