সারাদেশ

দাউদকান্দিতে ইউ এন ওর অপসারণ দাবিতে  মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন।

৩০ এপ্রিল ২০১৯, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, দাউদকান্দি সংবাদদাতা :   কুমিল্লার

দাউকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব আলমকে ৩দিনের মধ্যে অপসারণের দাবীতে মুক্তিযোদ্ধারা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্ত্বরে এ মানববন্ধের আয়োজন করা হয়। উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা এ মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করেন। এসময় মুক্তিযোদ্ধারা এক দফা দাবী নিয়ে শ্লোগান দেন। ইউএনও অফিস ঘেরাও করার চেষ্টা করলে মডেল থানা ওসি রফিকুল ইসলাম এসে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অনুরোধ করলে তাঁরা স্মারকলিপি দিয়ে চলে যান।

স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম যোগদানের পর গত স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অসম্মান করা হয়। এ অংশ হিসাবে মুক্তিযোদ্ধারা ওইসব অনুষ্ঠানমালা বর্জন করে তার প্রত্যাহারের দাবী জানান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মডেল কমপ্লেক্স তৈরী করেন। সেই ভবন তিন বারের সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা যুদ্ধের নায়ক মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল অবঃ সুবিদ আলী ভুইয়া এমপি কে দাওয়াত না করে তিনি নিজেই তরিঘরি বিভাগীয় কমিশনারকে নিয়ে উদ্বোধন করেন। তাতে মুক্তিযোদ্ধারা অপমান বোধ করেন এবং তার অপসারন দাবী করে আসছেন। পরে তারা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর অবঃ মোহাম্মদ আলীর নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
তাদের একদফা দাবী হলো মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানকারী ও দুর্নীতিবাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ ও আমরণ কর্মসূচী পালন করা হবে। এসময় সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রুহুল আমিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইউএনও মাহবুব আলম মুক্তিযোদ্ধা স্বপক্ষের সন্তান নয় তাই সে বার বার মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অসম্মান করছে। আমাদের এক দফা এক দাবী তাকে তিন দিনের প্রত্যাহার করতে হবে।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম যোগদানের পর জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অসম্মান করে আসছে। সে একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। কারণে-অকারনে আমাদেরকে বার বার বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করছে। তার নিপীরণ থেকে রেহাই পায়নি উপজেলা কোন কর্মকর্তা। স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও মুক্তিযোদ্ধাদের ফান্ড থেকে মোটা অংকের টাকা না দেওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করছে। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অফিসার মাহবুব আলম আমাদেরকে অসম্মান করবে তা মেনে নিতে পারি না। তাকে তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা করা হবে।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের এক গ্রুপের অভিযোগর কারণে তাদের দোকান ভাড়া নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করায় আমার বিরুদ্ধে এ আন্দোলন করছে। এর চেয়ে বেশী কিছু বলতে চাই না।

 

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button